Join FB Group! Share your problem.

মাথা ব্যাথা কেন হয়?? মাথা ব্যাথার কারন কি?? মাথা ব্যাথা হলে কি করবো?? দেখে নিন মাথা ব্যাথার কারন ও তার প্রতিকার।

দৈনন্দিন জীবনে মাথা ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। মাথা
ব্যথা অনেক বিরক্তিকর, তবে বেশীর ভাগ মাথা
ব্যথাই মারাত্মক রোগ নির্দেশ করেনা। দুশ্চিন্তা ও
মাইগ্রেন শতকরা ৯০ ভাগ মাথা ব্যথার জন্য দায়ী। মাথা
ব্যথা নানা রকমের। টেনশন হেডেক বা দুশ্চিন্তাজনিত
মাথা ব্যথা, মাইগ্রেন হেডেক, ক্লাস্টার হেডেক,
সাইনাস হেডেক, আর্জেন্ট হেডেক,
আইহেডেক বা চক্ষুজনিত মাথা ব্যথা, হরমোনজনিত
মাথা ব্যথা। তাছাড়া মগজের টিউমার, মগজের ঝিল্লির ভিতর
রক্তপাত, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি কারণেও মাথা ব্যথা হয়।

১. টেনশন হেডেক বা দুশ্চিন্তাজনিত মাথা ব্যথাঃ
মাথা ব্যথা মাথার উভয় দিকে হয়। মাথায় তীব্র চাপ অনুভূত
হয় এবং ব্যথা ঘাড়ে সংক্রমিত হতে পারে। মানসিক চাপে
ব্যথা বাড়তে পারে। পুরুষ, মহিলা সমানভাবে আক্রান্ত
হয়।

চিকিৎসাঃ
সাধারণত বেদনা নাশক দ্বারা চিকিতৎসা করা হয়। স্বল্পমাত্রার
ট্র্যাঙ্কুলাইজারও দেওয়া যেতে পারে।

২. মাইগ্রেন–এর মাথা ব্যথাঃ
শতকরা ১০-১৫ ভাগ লোক এ ধরণের মাথা ব্যথায়
আক্রান্ত হয়। মাইগ্রেন মহিলাদের বেশী হয়।
সাধারণত: ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে মাইগ্রেনের
লক্ষণ দেখা দেয় এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই
৪০-৫০ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মাইগ্রেনের
আক্রমণের সময় মগজের রাসায়নিক বাহক
সেরোটনিন-এর মাত্রা বেড়ে যায় এবং মাথা বাইরের
ধমনীগুলো প্রসারিত হয়।

চিকিতৎসাঃ
যেসব কারণে মাইগ্রেনের আক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তা
পরিহার করতে হবে। স্বল্পস্থায়ী চিকিতৎসা হিসাবে
অ্যাসপিরিন বা প্যারাসিটামলের সাথে এন্টিইমেটিক
যেমন প্রোক্লোরপেরাজিন,
মেটাক্লোপ্র্যামাইড দেয়া যেতে পারে। তীব্র
আক্রমণের চিকিত্সা হিসাবে সুমাট্রিপটিন, যা মাথার
বাইরের ধমনীকে সংকুচিত করে, তা মুখে বা
ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া যেতে পারে।
আর্গোটামিন বিকল্প হিসাবে দেওয়া যেতে পারে।
ঘন ঘন আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে
প্রতিরোধকারী হিসাবে প্রোপানোলল,
পিজোটিফেন বা অ্যামিট্রিপটাইলিন দেওয়া যেতে
পারে।

৩. ক্লাস্টার হেডেকঃ
ক্লাস্টার হেডেক মাইগ্রেনের চেয়ে কম হয়। এ
ধরনের মাথা ব্যথা মধ্য বয়স্ক পুরুষদের বেশী হয়ে
থাকে। কিন্তু মাইগ্রেন মহিলাদের বেশী হয়।

চিকিতৎসাঃ
চিকিত্সা হিসাবে উচ্চ মাত্রায় প্রদাহ বিনাশকারী
(এন্টিইনফ্লামেটরী) দেওয়া হয়। সুমাট্রিপটিনও
ফলপ্রসূ। আর্গোটামিন ও ভেরাপামিল রোগ
প্রতিরোধের জন্য কার্যকর। অর্ধেকের বেশী
রোগী ফেস মাস্কের মাধ্যমে ১০০% অক্সিজেন
শ্বাসের সাথে নিয়ে উপকার পায়। ধূমপান ও মদ্যপান
বর্জন করা উচিত।

৪. সাইনাস এর মাথা ব্যথাঃ
যাদের ঘন ঘন সর্দি-কাশি হয়, তাদের সাইনুসাইটিস
থেকে এ ধরণের মাথা ব্যথা হয়ে থাকে।

চিকিতৎসাঃ
চিকিতৎসা হিসাবে এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন, নাজাল
ডিকনেজস্ট্যান্ট বা নাজাল স্প্রে দেওয়া হয়।

৫. চক্ষুজনিত মাথা ব্যথাঃ
শতকরা ৫ ভাগ মাথা ব্যথা চক্ষুজনিত। চোখের দৃষ্টিশক্তি
কম থাকলে মাথা ব্যথা হতে পারে। অনেকক্ষণ পড়াশুনা
করা, সেলাই করা, সিনেমা দেখা বা কম্পিউটার স্ক্রিনের
দিকে তাকিয়ে থাকলেও মাথা ব্যথা হতে পারে।
চোখের কোন রোগ যেমন- কর্ণিয়া, আইরিশের
প্রদাহ, গ্লুকোমা বা রেট্রোবালবার নিউরাইটিস ইত্যাদি
কারণেও মাথা ব্যথা হতে পারে। চক্ষুজনিত মাথা ব্যথা
সাধারণতঃ চোখে, কপালের দু’দিকে বা মাথার পিছনে
হয়ে থাকে। চক্ষুজনিত মাথা ব্যথায় চক্ষু
বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

৬. হরমোনজনিত মাথা ব্যথাঃ
মহিলাদের মাসিক কালীন সময়ে প্রোজেষ্টেরন
ও এষ্ট্রোজেন হরমোনের উঠানামার কারণে মাথা
ব্যথা হতে পারে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলেও মাথা
ব্যথা হতে পারে। মাসিক চক্র শেষ হলে বা জন্ম
নিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়া বন্ধ করলে এ ধরণের মাথা
ব্যথা ভাল হয়ে যায়।



3 months ago (5:26 am) || Views (293 views)

About Author (57)

Administrator

কিছু শেখান, নয়তো কিছু শিখুন! প্রযুক্তির যগতে কিছু শিখতে এসেছি, শেখাতেও এসেছি। পাশেই থাকবেন!

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

TrickBaz.CozM by Sayef Sadman